মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে হেযবুত তাওহীদের বিভ্রান্তিকর কার্যকলাপ ও ধর্মবিরোধী অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) মাগরিবের পর উপজেলার জামশা কাজী বাড়ি মাদরাসা হলরুমে স্থানীয় আলেম-ওলামা, ইমাম ও সাধারণ মুসল্লিদের উদ্যোগে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক শতাধিক ধর্মপ্রাণ মুসলমান অংশগ্রহণ করেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মানিকগঞ্জের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা রমজান মাহমুদ এর সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুফতি রিজওয়ান রফিকী।
সভায় বক্তারা বলেন, হেযবুত তাওহীদদ ইসলামবিরোধী মতবাদ প্রচার করে মুসলমানদের ঈমান ও সমাজের শান্তি নষ্ট করছে। তাদের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান বক্তারা।
বক্তারা আরও বলেন, প্রশাসনকে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিতে হবে এবং এই সংগঠনের অপপ্রচার রোধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
প্রধান আলোচক মুফতি রিজওয়ান রফিকী তাঁর বক্তব্যে হেযবুত তাওহিদের কিছু ভ্রান্ত ও কুফরি মতবাদ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সংগঠনটির প্রকাশিত বিভিন্ন বই ও প্রচারপত্রে ইসলামবিরোধী অসংখ্য বক্তব্য রয়েছে, যা মুসলমানদের ঈমানের জন্য মারাত্মক হুমকি।
হেযবুত তাওহীদের কিছু ভ্রান্ত ও কুফরি মতবাদ তুলে ধরা হয়—
• পৃথিবীর সব ধর্ম ত্যাগ করা আবশ্যক, শ্রেণীহীন সমাজই প্রকৃত ইসলাম।
• বর্তমান ইসলাম খ্রিষ্টানদের বানানো, তাই তা পরিত্যাগ করতে হবে।
• বর্তমান ইসলাম ‘নারকীয় সিস্টেম’, একে বদলে ‘হেযবুত তাওহীদ’ গ্রহণ করতে হবে।
• হেযবুত তাওহীদ আল্লাহর সৃষ্টি এবং তিনি নিজেই এটি পরিচালনা করেন।
• পল্লী আল্লাহ কর্তৃক মনোনীত ইমাম এবং তাঁর ওপর মুজিযা সংঘটিত হয়েছে।
• তাঁর মুজিযা নবীদের মুজিযার মতো, বরং আরও বেশি। এ বিশ্বাস না করলে সে জাহান্নামী।
• মানবজাতির উদ্ধারকর্তা একমাত্র হেযবুত তাওহীদ; যারা এটি গ্রহণ করবে না, তাদের মুক্তি নেই।
• সংগঠনের সদস্যরা নিশ্চিত জান্নাতি এবং তাদের মর্যাদা সাহাবা ও নবীদের চেয়েও বেশি।
• নাস্তিকরা মুত্তাকি, এবং তাদের ইসলামবিরোধী সমালোচনা করতে দেওয়া উচিত।
• যেকোনো ধর্ম পালন করলেই জান্নাতে যাওয়া সম্ভব।
• গান, বাদ্যযন্ত্র, নাট্যকলা, নাচ, চিত্রাঙ্কন, ভাস্কর্য নির্মাণ হারাম নয়।
• দাজ্জাল কোনো মানুষ নয়; বর্তমান ইহুদি-খ্রিষ্টান সভ্যতাই দাজ্জাল।
• নারী নেতৃত্ব আল্লাহ হারাম করেননি; নারীরা সমানাধিকার প্রতিষ্ঠায় সর্বত্র কাজ করছে।
আলোচনা সভায় স্থানীয় ইমাম পরিষদের সদস্য, যুব সমাজ ও সাধারণ মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা ও ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টিকারী যেকোনো ভ্রান্ত মতবাদকে রুখে দিতে হবে ঐক্যবদ্ধভাবে।